গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা | তাপ সঞ্চালন | পদার্থবিজ্ঞান

গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা – পদার্থবিজ্ঞান পদার্থ ও তার গতির বিজ্ঞান। বাংলায় “পদার্থবিজ্ঞান” শব্দটি একটি সমাসবদ্ধ পদ। “পদার্থ” ও “বিজ্ঞান” দুটি সংস্কৃত শব্দ নিয়ে এটি গঠিত। এর ইংরেজি পরিভাষা Physics শব্দটি গ্রিক φύσις (ফুঁসিস) অর্থাৎ “প্রকৃতি”, এবং φυσικῆ (ফুঁসিকে) অর্থাৎ “প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান” থেকে এসেছে। পদার্থবিজ্ঞান বলতে বলা যেতে পারে এটা হলো গণিতের বাস্তব রূপ।

 

গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা

 

গ্রিনহাউস হল বিশেষ নির্মাণকৌশলে তৈরি করা এক ধরনের কাচের ঘর, যেখানে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে শাকসবজি, উদ্ভিদ ইত্যাদি উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়। সাধারণত শীতপ্রধান দেশসমূহে গ্রিনহাউসের মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রজনন ঘটানো হয় কারণ শীতপ্রধান দেশের সাধারণ তাপমাত্রা উদ্ভিদের প্রজননে সহায়ক নয়। তাই গ্রিনহাউসের ভেতর সুনিয়ন্ত্রিতভাবে তাপমাত্রা রক্ষা করে উদ্ভিদের প্রজনন ঘটানো হয় ।

 

পদার্থবিজ্ঞান সুচিপত্র

 

ভিনের সূত্রের সাহায্যে গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। সূর্যের তাপমাত্রা খুব বেশি বলে সূর্য হতে আগত আলোক- রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব কম। ফলে এর ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। তাই এটি সহজেই গ্রিনহাউসের কাচ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে, ফলে গ্রিনহাউসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পক্ষান্তরে গ্রিনহাউসের ভেতরের তাপমাত্রা কম বলে বিকীর্ণ তাপের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি। তাই ভেদন ক্ষমতা কম, ফলে তা কাচ ভেদ করে যেতে পারে না। এভাবেই ক্রমান্বয়ে গ্রিনহাউসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা উদ্ভিদের প্রজননে সহায়ক।

গ্রিনহাউসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে; কারণ প্রতিদিন কলকারখানা, মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নির্বিচারে গাছপালা নিধনের কারণে প্রকৃতিতে CO2 গ্যাসের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা গ্রিনহাউসের কাচের মতো কাজ করে। CO2 এর বৈশিষ্ট্য হল Shortwave কে চলাচলে সাহায্য করা এবং Longwave কে চলাচলে বাধা দেয়া। ফলে সূর্যের আলো সহজেই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, কিন্তু বায়ুমণ্ডল হতে বিকীর্ণ তাপের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা পৃথিবীতে আটকে থাকে বলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। নিম্নে চিত্র দেয়া হল ঃ

 

গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউস ক্রিয়া ব্যাখ্যা

 

গ্রিনহাউসের প্রতিক্রিয়াসমূহ নিম্নরূপ ঃ

১। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

২। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর (O3) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৩। বিভিন্ন ঋতুর পরিবর্তন হচ্ছে।

৪। সমুদ্রের পানির গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

৫। নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

৬। পৃথিবী ক্রমাগতভাবে এনট্রপির দিকে এগুচ্ছে, ফলে শক্তির সরবরাহ হ্রাস পাচ্ছে।

৭। বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic ray) বায়ুমণ্ডল ভেদ করে চলে আসছে, ইত্যাদি । 

 

অর্থাৎ গ্রিনহাউস ক্রিয়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের তত্ত্ব (Theory of global warming) সমর্থন করে, যার ফলাফল খুবই বিরূপ ।