আজকে আমরা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবো। যা বাউবি এইচএসসি ২৮৭১ পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র ইউনিট ৫ চুম্বকত্ব এর অন্তর্ভুক্ত।

পৃথিবীর চৌম্বকত্ব
পৃথিবীর চুম্বকত্ব (Terrestrial Magnetism)
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গালবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি চুম্বক। সাধারন চুম্বকের মতো এর দুটি মের আছে। দক্ষিণ মের- কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীকে এবং উত্তর মের— অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দক্ষিণে ভিকটোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। পদার্থ বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর চুম্বকত্ব এবং এতদসংক্রাড় বিভিন্ন বিষয় জানা যায় তাকে ভূ-চুম্বকত্ব বা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বলে ।
ভূগোলক হিসেবে পৃথিবীর দুটি মের আছে। এর উত্তর প্রাড়ের মের নাম ভৌগলিক উত্তর মের— এবং দক্ষিণ প্রান্ত্ে র মের নাম ভৌগলিক দক্ষিণ মের—। যেহেতু বিপরীত মের—তে আকর্ষণ ঘটে, সুতরাং মুক্তভাবে ঝুলড্ চৌম্বক শলাকা বা সাধারণ চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মের— যথাক্রমে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ এবং উত্তর মেরর দিকে অবস্থান করে । এজন্য আমরা সাধারণভাবে বলে থাকি যে, ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মের— ভৌগলিক উত্তর মেরর দিকে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মের— ভৌগলিক দক্ষিণ মের“র দিকে থাকে। তবে প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মের— ভৌগলিক উত্তর মের— হতে প্রায় ২৫০০ কি.মি পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মের— ভৌগলিক দক্ষিণ মের— হতে প্রায় ২২০০ কি.মি পূর্বে অবস্থিত।
ভৌগলিক উত্তর এবং দক্ষিণ মের=র সংযোজক রেখাকে ভৌগোলিক অক্ষ বলে। তেমনি ভূ-চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মের—র সংযোজক রেখাকে ভূ-চৌম্বক অক্ষ বলে। ভৌগোলিক অক্ষের সাথে এই ভূ-চৌম্বক অক্ষ প্রায় ১৮° কোণ করে আছে (চিত্র)।
যেহেতু মুক্তভাবে ঝুল সাধারণ চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ মের যথাক্রমে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে সেজন্য সাধারণ চুম্বকের উত্তর মের“কে উত্তর সন্ধানী (North-seeking ) মের— এবং দক্ষিণ মের—কে দক্ষিণ সন্ধানী (South seeking ) মের— বলে। সংক্ষেপে তাদেরকে যথাক্রমে উত্তর মের= এবং দক্ষিণ মের— বলে । অনেকে ভূ-চুম্বকের উত্তর মের—কে নীল মের (Blue pole) এবং দক্ষিণ মের—কে লাল মের (Red pole) বলে ।

ভূ-চুম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের মান ও অভিমুখ সর্বত্র সমান নয়। বিভিন্ন স্থানে এদের মান বিভিন্ন হয়। এজন্য ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে উলম্ব তলে ঘুরতে পারে এমন একটি ছোট চুম্বক শলাকাকে ভূ-পৃষ্ঠোর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেলে তার চৌম্বক অক্ষ অনুভূমিকের সাথে বিভিন্ন কোণে হেলে থাকবে। পরীক্ষার সাহায্যে দেখা গেছে যে, কোনো একটি চৌম্বক শলাকাকে ক্রমাগত ভৌগোলিক উত্তর মের“র দিকে নিয়ে যাওয়ায় এর উত্তর মের— ক্রমশ ভূ-পৃষ্ঠের দিকে ঝুঁকে যায় এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মের—তে এর চৌম্বক অক্ষ উত্তর মের= নিচে রেখে সম্পূর্ণ উলম্ব হয়ে থাকে ।
বিপরীতক্রমে চৌম্বক শলাকাকে দক্ষিণ মের—তে নিয়ে গেলে এর চৌম্বক অক্ষ দক্ষিণ মের= নিচে রেখে সম্পূর্ণ খাড়া অবস্থায় অবস্থান করে।
কিন্তু বিষুব রেখা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মুক্তভাবে ঝুলড্ চুম্বক শলাকার চৌম্বক অক্ষ প্রায় অনুভূমিক অবস্থায় অবস্থায় করবে।
কাজ:
পৃথিবী একটি বিরাট চুম্বক-ব্যাখ্যা কর।
মুক্তভাবে সুতার সাহায্যে অনুভূমিকভাবে কিছু দিন ধরে ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানে যদি পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ মের— বরাবর মুখ করে একটি নরম লোহার দন্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়, তবে দন্ডটির মধ্যে ক্ষীণ চৌম্বক ধর্মের সৃষ্টি হয়। এছাড়া একটা বদ্ধ পরিবাহী পৃথিবীর উপর যে কোনো স্থানে নাড়াচাড়া করলেও এর মধ্য দিয়ে ক্ষীণ তড়িৎ প্রবাহ লক্ষ করা যায়, যেমনটি লক্ষ করা যায় একটি পরিবাহীকে চৌম্বক ক্ষেত্রে নাড়াচাড়া করলে। এই ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্ত্ে উপনীত হন যে,পৃথিবী নিজেই একটি বিরাট চুম্বক ।

সার-সংক্ষেপ :
ভূ-চুম্বকত্ব বা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব:
পদার্থ বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর চুম্বকত্ব এবং এতদসংক্রাড় বিভিন্ন বিষয় জানা যায় তাকে ভূ-চুম্বকত্ব বা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বলে ।
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিক (√) চিহ্ন দিন
১। পৃথিবীর উত্তর মের— কোথায় অবস্থিত?
(ক) কানাডা
(খ) অস্ট্রেলিয়া
(গ) আমেরিকা
(ঘ) রাশিয়া
২। ভূ-চৌম্বকের দক্ষিণ মের— কোথায় অবস্থিত?
(ক) এশিয়া মহাদেশে
(খ) ইউরোপ মহাদেশে
(গ) এন্টার্টিকা মহাদেশে
(ঘ) দক্ষিণ আমেরিকায়
