বর্জিত তাপের যোগফল | পদার্থের তাপ ধারণ ক্ষমতা | পদার্থবিজ্ঞান

বর্জিত তাপের যোগফল – পদার্থবিজ্ঞান পদার্থ ও তার গতির বিজ্ঞান। বাংলায় “পদার্থবিজ্ঞান” শব্দটি একটি সমাসবদ্ধ পদ। “পদার্থ” ও “বিজ্ঞান” দুটি সংস্কৃত শব্দ নিয়ে এটি গঠিত। এর ইংরেজি পরিভাষা Physics শব্দটি গ্রিক φύσις (ফুঁসিস) অর্থাৎ “প্রকৃতি”, এবং φυσικῆ (ফুঁসিকে) অর্থাৎ “প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান” থেকে এসেছে। পদার্থবিজ্ঞান বলতে বলা যেতে পারে এটা হলো গণিতের বাস্তব রূপ।

 

প্রমাণ কর যে, কোনো বস্তুর মোট গৃহীত তাপ তার চতুর্দিকে বস্তুর বর্জিত তাপের যোগফল এর সমান

 

বিভিন্ন তাপমাত্রার দুই বা ততোধিক বস্তু একত্রে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান-প্রদান ঘটে, যতক্ষণ প এরা সাধারণ তাপমাত্রায় উপনীত হয়। যে সকল বস্তুতে অধিক তাপ থাকে এবং যে সকল বস্তুতে অপেক্ষাকৃত থাকে, সেক্ষেত্রে অধিক উত্তপ্ত বস্তু তাপ বর্জন করে এবং কম উত্তপ্ত বস্তু তাপ গ্রহণ করে। অর্থাৎ বিভিন্ন তাপমাত্র একটি নির্দিষ্ট সাধারণ তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত তাদের মধ্যে তাপ আদান-প্রদান করে থাকে। যদি দু’টি ভিন্ন তাপমাত্রা বিশিষ্ট বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে আনার পর বাইরে কোনো তাপ না আসে বা এদের কে কোনো তাপ বাইরে না যায় এবং এদের মধ্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া না ঘটে তাহলে শক্তির নিত্যতা সূত্রানুসারে বলা বর্জিত বা হারানো তাপ = গৃহীত তাপ । এর তাপ পরিমাপের মূলনীতি এবং এই সূত্রকে তাপের সংরক্ষণ সূত্র বলা হয়।

 

বর্জিত তাপের যোগফল
বর্জিত তাপের যোগফল

 

তাপ ও তাপমাত্রার সংজ্ঞা (Define heat and temperature) আমরা সবাই তাপ কথাটির সাথে পরিচিত। কোনো বস্তুকে স্পর্শ করলে আমরা ঠান্ডা অনুভব করি বা গরম অনুভব করি। এক টুকরা বরফ হাত দিয়ে স্পর্শ করলে ঠান্ডা অনুভব হয়, আবার ফুটন্ত পানি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে প্রচণ্ড গরম অনুভব হয়। সুতরাং যার প্রভাবে কোনো বস্তু ঠান্ডা বা গরম অনুভব হয় তাই-ই তাপ। অর্থাৎ কোনো বস্তুতে তাপ প্রয়োগ করলে গরম অনুভব হয়, আবার তাপ অপসারিত করলে ঠান্ডা অনুভব হবে।

 

তাপ (Heat) : যে বাহ্যিক ভৌত কারণে (External Physical Cause) কোনো বস্তু উষ্ণ ও শীতলতার অনুভূতি সৃষ্টি করে তাকে তাপ বলে । তাপ এক প্রকার শক্তি। একে অদৃশ্য শক্তিও (Invisible Energy) বলা হয়। তাপের কোনো আকার, আয়তন, ভর, বর্ণ বা গন্ধ নাই, শুধুমাত্র কোনো বস্তুতে প্রয়োগ করলে বস্তুটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং অপসারণ করলে তা শীতলতা প্রাপ্ত হয়। অন্যান্য শক্তির ন্যায় তাপ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে তাপ শক্তির বিকাশ ঘটে ।

উদাহরণস্বরূপ দেখা যায় যে, বাষ্প ইঞ্জিনে কয়লা দহনের ফলে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে পরিবর্তিত হয় এবং এই তাপ ইঞ্জিন বয়লারের পানিকে উত্তপ্ত করে বাষ্পে পরিণত করে। এই বাষ্প দ্বারা ইঞ্জিন চালিত হয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রে তাপ শক্তি বাহ্যিক শক্তির রূপ পরিগ্রহ করে ইঞ্জিন পরিচালনার কাজ সম্পন্ন করে। যেহেতু তাপ শক্তি পরোক্ষভাবে ইঞ্জিন চালনা কাজ করছে অতএব, তাপ এক প্রকার শক্তি। তাপের মূল উৎস সূর্য ।

 

গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

1 thought on “বর্জিত তাপের যোগফল | পদার্থের তাপ ধারণ ক্ষমতা | পদার্থবিজ্ঞান”

Leave a Comment