বিকিরণ ক্ষমতা এবং শোষণ ক্ষমতার বর্ণনা – পদার্থবিজ্ঞান পদার্থ ও তার গতির বিজ্ঞান। বাংলায় “পদার্থবিজ্ঞান” শব্দটি একটি সমাসবদ্ধ পদ। “পদার্থ” ও “বিজ্ঞান” দুটি সংস্কৃত শব্দ নিয়ে এটি গঠিত। এর ইংরেজি পরিভাষা Physics শব্দটি গ্রিক φύσις (ফুঁসিস) অর্থাৎ “প্রকৃতি”, এবং φυσικῆ (ফুঁসিকে) অর্থাৎ “প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান” থেকে এসেছে। পদার্থবিজ্ঞান বলতে বলা যেতে পারে এটা হলো গণিতের বাস্তব রূপ।
বিকিরণ ক্ষমতা এবং শোষণ ক্ষমতার বর্ণনা
বিকিরণ ক্ষমতা ঃ কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বস্তুর একক ক্ষেত্রফল হতে একক ঘনকোণে একক সময়ে একক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য লম্বভাবে বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যে আলোর বিকিরণ ঘটে, তাকে বিকিরণ ক্ষমতা বলে । একে e দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক watt m2 (A°)-‘. বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর জন্য বিকিরণ ক্ষমতার মান বিভিন্ন হয়। যদি কোনো বিকিরণ বস্তু একক সময়ে একক ক্ষেত্রফল হতে AH, পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে এবং ঐ তাপমাত্রায় একক সময়ে একক ক্ষেত্রফলে AH2 পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে তাহলে সূত্রানুসারে,

শোষণ ক্ষমতা ঃ কোনো তল কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পার্থক্যে (di) শোষিত বিকীর্ণ তাপের পরিমাণ এবং ঐ তলে ঐ সময় ঐ পরিসরে আপতিত বিকীর্ণ তাপের অনুপাতকে ঐ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য শোষণ ক্ষমতা বলে । একে a, দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যদি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো বস্তু মোট বিকিরণ তাপের AH, অংশ শোষণ করে এবং ঐ সময়ে মোট AH, পরিমাণ তাপ
আপতিত হয় তবে শোষণ ক্ষমতা,

তাপ (Heat) :
যে বাহ্যিক ভৌত কারণে (External Physical Cause) কোনো বস্তু উষ্ণ ও শীতলতার অনুভূতি সৃষ্টি করে তাকে তাপ বলে । তাপ এক প্রকার শক্তি। একে অদৃশ্য শক্তিও (Invisible Energy) বলা হয়। তাপের কোনো আকার, আয়তন, ভর, বর্ণ বা গন্ধ নাই, শুধুমাত্র কোনো বস্তুতে প্রয়োগ করলে বস্তুটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং অপসারণ করলে তা শীতলতা প্রাপ্ত হয়। অন্যান্য শক্তির ন্যায় তাপ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে তাপ শক্তির বিকাশ ঘটে ।
উদাহরণস্বরূপ দেখা যায় যে, বাষ্প ইঞ্জিনে কয়লা দহনের ফলে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে পরিবর্তিত হয় এবং এই তাপ ইঞ্জিন বয়লারের পানিকে উত্তপ্ত করে বাষ্পে পরিণত করে। এই বাষ্প দ্বারা ইঞ্জিন চালিত হয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রে তাপ শক্তি বাহ্যিক শক্তির রূপ পরিগ্রহ করে ইঞ্জিন পরিচালনার কাজ সম্পন্ন করে। যেহেতু তাপ শক্তি পরোক্ষভাবে ইঞ্জিন চালনা কাজ করছে অতএব, তাপ এক প্রকার শক্তি। তাপের মূল উৎস সূর্য ।

6 thoughts on “বিকিরণ ক্ষমতা এবং শোষণ ক্ষমতার বর্ণনা | তাপ সঞ্চালন | পদার্থবিজ্ঞান”