প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া | তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র | পদার্থবিজ্ঞান

প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া – পদার্থবিজ্ঞান পদার্থ ও তার গতির বিজ্ঞান। বাংলায় “পদার্থবিজ্ঞান” শব্দটি একটি সমাসবদ্ধ পদ। “পদার্থ” ও “বিজ্ঞান” দুটি সংস্কৃত শব্দ নিয়ে এটি গঠিত। এর ইংরেজি পরিভাষা Physics শব্দটি গ্রিক φύσις (ফুঁসিস) অর্থাৎ “প্রকৃতি”, এবং φυσικῆ (ফুঁসিকে) অর্থাৎ “প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান” থেকে এসেছে। পদার্থবিজ্ঞান বলতে বলা যেতে পারে এটা হলো গণিতের বাস্তব রূপ।

 

প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া

 

প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া ঃ যে প্রক্রিয়া কোনোরূপ শক্তির অপচয় বা শোষণ ব্যতীত পুনরায় প্রাথমিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাকে প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে। এটি সাধারণত ধীর প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। 

যেমন- পানি — বরফ

ব্যাখ্যা ঃ পানির যখন তাপমাত্রা কমানো হয় তখন পানি বরফে পরিণত হয় এবং বরফকে যখন তাপ প্রয়োগ করা হয় তখন এটি পানিতে পরিণত হয়। পানি বরফে পরিণত হওয়ার সময় যে তাপ শোষিত হয়, ঠিক সেই পরিমাণ তাপ বরফ পানিতে পরিণত হওয়ার সময় প্রয়োজন হয়। তাই এটি একটি প্রত্যাগামী প্রক্রিয়া । 

 

পদার্থবিজ্ঞান সুচিপত্র
পদার্থবিজ্ঞান সুচিপত্র

 

অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া ঃ যে প্রক্রিয়া কোনোভাবেই পুনরায় প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে আসতে সক্ষম নয়, তাকে অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া বলে । প্রায় সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই অপ্রত্যাগামী । এটি দ্রুত প্রক্রিয়া; যেমন- ঘর্ষণজনিত তাপ, বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে উৎপন্ন তাপ ইত্যাদি। 

 

ব্যাখ্যা ঃ ঘর্ষণজনিত এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে উৎপন্ন তাপকে পুনরায় কাজে রূপান্তরিত করা সম্ভব নয়। তাই এই দু’ধরনের তাপই অপ্রত্যাগামী ।

 

নিম্নে প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়ার পার্থক্য দেয়া হল-

 

প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া
প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া

 

তাপ (Heat) :

যে বাহ্যিক ভৌত কারণে (External Physical Cause) কোনো বস্তু উষ্ণ ও শীতলতার অনুভূতি সৃষ্টি করে তাকে তাপ বলে । তাপ এক প্রকার শক্তি। একে অদৃশ্য শক্তিও (Invisible Energy) বলা হয়। তাপের কোনো আকার, আয়তন, ভর, বর্ণ বা গন্ধ নাই, শুধুমাত্র কোনো বস্তুতে প্রয়োগ করলে বস্তুটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং অপসারণ করলে তা শীতলতা প্রাপ্ত হয়। অন্যান্য শক্তির ন্যায় তাপ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে তাপ শক্তির বিকাশ ঘটে ।

 

উদাহরণস্বরূপ দেখা যায় যে, বাষ্প ইঞ্জিনে কয়লা দহনের ফলে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে পরিবর্তিত হয় এবং এই তাপ ইঞ্জিন বয়লারের পানিকে উত্তপ্ত করে বাষ্পে পরিণত করে। এই বাষ্প দ্বারা ইঞ্জিন চালিত হয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রে তাপ শক্তি বাহ্যিক শক্তির রূপ পরিগ্রহ করে ইঞ্জিন পরিচালনার কাজ সম্পন্ন করে। যেহেতু তাপ শক্তি পরোক্ষভাবে ইঞ্জিন চালনা কাজ করছে অতএব, তাপ এক প্রকার শক্তি। তাপের মূল উৎস সূর্য ।

2 thoughts on “প্রত্যাগামী এবং অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া | তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র | পদার্থবিজ্ঞান”

Leave a Comment