তাপের উৎসের পরিচয় – পাঠটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর পলিটেকনিক এর “পদার্থবিজ্ঞান ২” বিষয়ের “থার্মোমিতি ” অধ্যায়ের একটি পাঠ।
তাপের উৎসের পরিচয়
(Identity the sources of heat)

তাপ (Heat) :
যে বাহ্যিক ভৌত কারণে (External Physical Cause) কোনো বস্তু উষ্ণ ও শীতলতার অনুভূতি সৃষ্টি করে তাকে তাপ বলে । তাপ এক প্রকার শক্তি। একে অদৃশ্য শক্তিও (Invisible Energy) বলা হয়। তাপের কোনো আকার, আয়তন, ভর, বর্ণ বা গন্ধ নাই, শুধুমাত্র কোনো বস্তুতে প্রয়োগ করলে বস্তুটি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং অপসারণ করলে তা শীতলতা প্রাপ্ত হয়। অন্যান্য শক্তির ন্যায় তাপ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে তাপ শক্তির বিকাশ ঘটে ।
প্রাচীনকালে তাপের প্রধান ও একমাত্র উৎস ছিল সূর্য। পরে বিভিন্ন দাবানল ও আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার হওয়ার পর উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে তাপ পেয়ে থাকি । নিচে তাপের কয়েকটি উৎস বর্ণনা করা হল :
তাপের কয়েকটি উৎস:
১। সূর্য ঃ
সূর্য তাপের প্রধান উৎস। একে পৃথিবী ও সৌরজগতের প্রধান তাপের উৎস হিসেবে ধরা হয় । তাছাড়াও তেল, গ্যাস, কয়লা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি উৎস থেকে যে তাপ আমরা পাই ঐ তাপও পরোক্ষভাবে সূর্য থেকেই আসে।
২। বিদ্যুৎশক্তি ঃ
কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ঐ পরিবাহী গরম হয়ে তাপ উৎপন্ন হয়।
৩। রাসায়নিক ক্রিয়া ঃ
তাপের দ্বিতীয় ও সহজপ্রাপ্য উৎস হল রাসায়নিক ক্রিয়া। গ্যাস, তেল, কয়লা, কাঠ ইত্যাদি পোড়ালে প্রচুর তাপ পাওয়া যায়।
৪। যান্ত্রিক শক্তি ঃ
যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাপ পাওয়া যায়। যেমন- মহাশূন্যে ভাসমান বস্তুপিণ্ড পৃথিবীর অভিকর্ষণের টানে পৃথিবীর দিকে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে জ্বলে উঠে এবং তাপ উৎপন্ন হয়, একে উল্কাপিণ্ড বলা হয় ।
৫। অবস্থার পরিবর্তন ঃ
বস্তুর বাষ্পীয় অবস্থা থেকে তরলে এবং তরল অবস্থা থেকে কঠিনে পরিণত করলে বস্তুর তাপ উৎপন্ন করে ।
৬। আণবিক শক্তি ঃ
অণুর গঠনে ও ভাঙনে প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয় ।
৭। ভূগর্ভ ঃ
পৃথিবীর কেন্দ্রে প্রচুর তাপ বিদ্যমান আছে। এই তাপের কারণে দাবানল ও আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি ঘটে।


2 thoughts on “তাপের উৎসের পরিচয়”